শিয়ালদার ফুটপাথে বসে আছেন আমার ধাইমা
দুটো হাত সামনে পেতে রাখা
ঠোঁট নড়ে উঠছে মাঝে মাঝে
যে কেউ ভাববে দিনকানা এক হেঁজিপোঁজি বাহাত্তুরে রিফিউজি বুড়ি।
আঁতুড়ঘরে আমার মুমূর্ষু মায়ের কোল থেকে উনি
একদিন আমাকে বুকে তুলে নিয়েছিলেন
ঐর ডাটো শরীরের স্তন্য পান করেছিলুম প্র
তিদিন শুষে নিয়েছি রক্ত
ধাইমার কুঁড়োর গন্ধ মাখা বুকে শুয়ে আমি
চিল-কান্না কেঁদেছি
রোদ্দুরে পা ছড়িয়ে বসে আমাকে তেল মাখাতে মাখাতে
কত আদিখ্যেতা করতেন
মা-মাসিদের কাছে পরে অনেকবার শুনেছি সেই গল্প—
আমার ভেদ-বমির সময় অমাবস্যার মধ্যরাত্ৰে স্নান করে
তুলে এনেছিলেন গন্ধবাদালির পাতা
সত্যপীরের দায়গায় মানত করেছিলেন আমলকী।
প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে আমি সিকির বদলে
দশ নয়া খুঁজছিলাম
দিনকানা বুড়ি চাইছিল, দুটো পয়সা দে বাবা!
ধাইমা, তুমি প্রথম আমার চোখ ফাঁক করে দিয়েছিলে
গোলাপজল,
দেখিয়েছিলে পৃথিবী
ধাইমা, এ কোন পৃথিবী আমাকে দেখালে?
বুড়ি, সর্বনাশিনী, আমাকে কেন বাঁচিয়ে রেখেছিলি
এই অকল্পনীয় পৃথিবীতে
আমি আর কত কিছু হারাবো?
কবিতা — ধাত্রী
রবিবার, ০৪ আগস্ট ২০২৪
বিবিধ কবিতা
২৬৯০
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'ধাত্রী' কবিতায় কবি তাঁর জীবনদাত্রী ধাইমাকে শিয়ালদহ ফুটপাথে অসহায় অবস্থায় দেখে ব্যথিত হয়েছেন। শৈশবে মুমূর্ষু অবস্থা থেকে যে নারী তাঁকে বাঁচিয়েছিলেন, আজ তিনি নিদারুণ দারিদ্র্যের শিকার। কবির চেতনায় ফুটে উঠেছে জীবনের নির্মম সত্য ও বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবতা, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
মোঃ সেলিম রেজা বাপ্পী
শুভ জন্মদিন! 🎈