আকাশ-বিহারের ক্লান্তি মোচনে এক মুহূর্তের জন্য হারাই
আমি- একা শ্যামল-সড়কের পাশে সমান্তরাল দাঁড়াই
তাসকেন্তের এক বাউল দুপুরে;
পাশে বিশাল ম্যাপলের সারি- কাছে দূরে…
পারিপার্শ্বের সকল কিছু আমাকে যুগপৎ আটক করে;
আমার ‘আমি’ যেন আমার অগোচরে
সময়ের অধীন হয়ে যায়
এই ক্ষণিক বিভুঁই-মায়ায়…
আকাশ-বনানীর শ্যামলীমা-তাড়িত বিমুগ্ধ সত্তা
আচমকা সংবিৎ ফিরে পায়;
দেখে- পিচঢালা রাস্তায়, সতেজ সবুজ গালিচায়
পড়ে আছে অজস্র আবির-রাঙা ম্যাপল পাতা,
তারা নাকি সকলেই মৃত!
মৃত্যুর রঙ এতটাই লাল! জীবনের ঘোর বিপরীতও!
জীবন তো প্রগাঢ় এক সবুজের মেলা!
-এ দেখা একেবারেই অদেখা…
টেমসের পাশেও সড়কজুড়ে দেখেছি এই ফুরানোর খেলা-
মৃত্যুর হিড়িক- গাঢ় লাল, আবিররঙা, রহস্য-রঙিন…
তার ভেতরে যে অদৃশ্য জীবনের অন্তঃপ্রবাহ দেখেছি,
তা জীবন্ত টেমসের বুকেও খুঁজে পাইনি কোনদিন…
কে আর কত খোঁজ রাখে-
জীবনের বাঁকে বাঁকে!
এ রঙিন চরাচরে পড়ে আছে কত রহস্য হাল!
তবে আছে কি কোন ম্যাপল-মানুষ?
মৃত্যু যার এতটাই লাল!
(অক্টোবার ২০১৮, তাসকেন্ত ও লন্ডন)
কবিতা — ম্যাপল-মানুষ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রূপক কবিতা
,
সাম্য-জীবনমুখী কবিতা
২৩
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
‘ম্যাপল-মানুষ’ কবিতায় প্রবাসে ম্যাপল পাতার ঝরে পড়া ও তার গাঢ় লাল রঙের রূপকের মাধ্যমে জীবন ও মৃত্যুর গভীর সত্য প্রকাশ পেয়েছে। সবুজ জীবন আর লাল মৃত্যুর দ্বৈততায় কবি ক্ষণস্থায়িত্বের মাঝেও এক অদৃশ্য জীবনের আন্তঃপ্রবাহ খুঁজে পান। কবি প্রশ্ন তুলেছেন, লাল ম্যাপল পাতার মতো রঙিন ও তাৎপর্যপূর্ণ মৃত্যু নিয়ে কোনো ‘ম্যাপল-মানুষ’ কি এই রহস্যময় জগতে বিদ্যমান?