রাতের আকাশে তখনও
তারারা জ্বলত—
কিন্তু পৃথিবীর নিচে
অন্ধকার ছিল আরও গভীর।
একটি ছেলে হাঁটত—
তার পকেটে কয়েকটি শব্দ,
চোখে এক অনাগত পৃথিবী;
রুটির গন্ধ আর মানুষের ক্ষুধা
মিশে যেত তার কবিতার ভিতর।
সে জানত,
চাঁদ যতই সুন্দর হোক
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে
একটি রুটি তার চেয়ে অধিক পূর্ণিমা।
তবু সে শুধু ক্ষুধার কথা বলেনি—
বলেছিল এমন এক পৃথিবীর কথা,
যেখানে শিশুরা
জন্মের আগেই শিখবে না
দারিদ্র্যের বর্ণমালা।
তারুণ্য তখন
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে,
আর সে—
নিজের ক্ষীণ শরীরের ভিতর
একটি বিশাল পৃথিবী বহন করে
চলে গেল হঠাৎ।
কত বছর পেরিয়ে গেছে!
আজও কোনো ভোরে
ধানের গন্ধে, কারখানার ধোঁয়ায়,
শীতের কাঁপা ফুটপাথে
তাকে মনে পড়ে—
মনে হয়,
সে বুঝি এখনও অপেক্ষা করছে
সেই পৃথিবীর জন্য
যাকে মানুষের বাসযোগ্য করে
তারপরই ফিরে যেতে চেয়েছিল।
সুকান্ত,
তোমার কবিতার বয়স বাড়েনি—
শুধু পৃথিবীটাই
এখনও তোমার স্বপ্নের
চেয়ে একটু বেশি বৃদ্ধ।