ভূমিকা—
কল্পনা করুন, আপনার হাতে একটি প্রাচীন ঘড়ি—যার কাঁটা ঘুরছে উল্টো দিকে। এই উপন্যাসটি সেই ঘড়ির মতো একটি অভিশপ্ত যন্ত্র। আজকের সেলফি, ফিল্টার আর \'চিরন্তন সৌন্দর্য\'-এর প্রতিযোগিতা থেকে সময়ের কাঁটা আপনাকে ছুড়ে ফেলবে চারশো বছর পেছনে—সেই ১৬০০ সালের হাঙ্গেরির কুয়াশাচ্ছন্ন জঙ্গলে, যেখানে সিসজে ক্যাসলের টাওয়ারগুলো দাঁড়িয়ে যেন এক দানবের রক্তাক্ত চোয়াল।
সেখানে বাস করতেন তিনি—রক্তের রাণী, এলিজাবেথ বাথোরি। যৌবনের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য, তিনি ছিলেন মৃত্যুর নৃত্যশিল্পী। একের পর এক কুমারী কিশোরী তাঁর হাতে পড়তো। তাদের চিৎকার গিলে নিতো ক্যাসলের দেয়াল, যখন তাঁর চামড়ায় ঝরে পড়তো উষ্ণ রক্তের ধারা। তিনি সেই রক্তে গোসল করতেন—যেন প্রতিটি ফোঁটা তাঁর যৌবনকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
আপনি ভ্রমণ করবেন সেই প্রাসাদের গোপন পথে—যেখানে ভাঙা আয়নায় প্রতিফলিত হয় অজানা মুখ, শুনবেন দরজার ফাঁকে ফিসফিসানি। আর হঠাৎ ফিরে আসবেন বর্তমানে। কিন্তু সাবধান—সেই অভিশাপ আপনার সঙ্গে ফিরে আসবে।
কারণ তিনি খোলস পাল্টেছেন। সেই আদিম বর্বরতা এখন ঢেকে গেছে আধুনিক মোহে। ডিজিটাল ক্যামেরা, গ্ল্যামার আর সোশ্যাল মিডিয়া—এগুলোই এখন তাঁর নতুন \'রক্তস্নান\'।
প্রশ্ন হলো: আপনার চামড়ার নিচে কি লুকিয়ে আছে সেই রক্তের ছোঁয়া? কারণ পৃথিবীতে কিছুই মুছে যায় না—সবকিছু বেঁচে থাকে, শুধু রূপ বদলায়। এই অভিশাপের শেষ লাইন লুকিয়ে আছে প্রথম অধ্যায়ের পাতায়… যদি আপনার সাহস থাকে তা পড়ার।
—কাজী অ্যাডাম
গ্রন্থ — রক্তের রাণী: সিসজে ক্যাসলের অভিশাপ
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
উপন্যাস
গ্রন্থের তথ্য:
প্রকাশনী: GenZ Publishers
প্রকাশক: কাজী দ্বীন ইসলাম
প্রচ্ছদ শিল্পী: কাজী তিতাস
প্রথম প্রকাশ: ২০২৬
৫৪