আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।
চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।
আর-পারে আমবন তালবন চলে,
গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে।
তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাইবার কালে
গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে।
সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে
আঁচল ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে।
বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে,
বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে।
আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর
মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।
মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,
ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।
দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,
বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।।
কবিতা — আমাদের ছোট নদী
বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০২৩
প্রকৃতির কবিতা
,
ছড়া
৯৯৮৭
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'আমাদের ছোট নদী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কালজয়ী কবিতা। এতে রূপায়িত হয়েছে গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনযাত্রা এবং ঋতুভেদে নদীর রূপ পরিবর্তন। বৈশাখে হাঁটু জলের নদী আষাঢ়ের বর্ষায় কীভাবে রূপ পরিবর্তন করে উত্তাল হয়, তা সহজ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, প্রকৃতির রূপ ও মেঠো সংস্কৃতির এক জীবন্ত চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই কবিতায়।