তোমার মনের নাগাল পেতে যে দীর্ঘ পথ আমি ক্লান্তিহীন হেঁটেছি,
ততটা পথ হাঁটলে হয়তো পৌঁছে যেতাম প্রাচীন সিল্ক রুটের শেষ সীমানায়।
তোমার একটুখানি মনোযোগ পাওয়ার জন্য যতবার আমি নিজেকে ভেঙেছি,
ততবার ভাঙলে হয়তো ধ্বংসস্তূপ থেকে আস্ত একটা রোম শহর গড়া যেত।
তোমার একটি উত্তরের অপেক্ষায় আমি যতগুলো প্রহর গুনেছি,
ততটা সময় দিলে হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ আর সুন্দর মহাকাব্যটা লেখা হয়ে যেত।
তোমার চোখের ওই নীরব ভাষা পড়ার জন্য যত বিনিদ্র রাত আমি কাটিয়েছি,
ততটা শ্রমে হয়তো পড়ে ফেলা যেত সমুদ্রের অতলে ডুবে যাওয়া কোনো নাবিকের শেষ ডায়েরি।
অথচ দেখো, এত পথ, এত দীর্ঘ সময়, এত এত প্রহর পেরিয়ে এসেও
আমি তোমার মনের চৌকাঠে এক ইঞ্চিও এগোতে পারিনি।
আজ বড্ড ক্লান্ত হয়ে মনে হয়,
পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ আর দুর্গম পথটা আসলে মক্কা, কাশী বা জেরুজালেম নয়,
সবচেয়ে দুর্গম পথ হলো
যে ভালোবাসে না,
তার হৃদয়ের দিকে হেঁটে যাওয়া।
- আতিকুর রহমান অন্তর
- ১৬ অক্টোবর, ২০২৬।
কবিতা — অপেক্ষার মহাকাব্য
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিরহের কবিতা
,
প্রেমের কবিতা
৩৪
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'অপেক্ষার মহাকাব্য' কবিতাটিতে কবি আতিকুর রহমান অন্তর একতরফা ভালোবাসা ও অবহেলার গভীর বেদনা তুলে ধরেছেন। প্রিয় মানুষের মন পাওয়ার দীর্ঘ ও ব্যর্থ চেষ্টার তুলনা করা হয়েছে রোম শহর গড়া বা সিল্ক রুট পাড়ি দেওয়ার সাথে। কবির মতে, যে ভালোবাসে না তার মন জয় করাই পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম পথ। বিরহ ও অপেক্ষার এক অসাধারণ কাব্যিক নিবেদন এই কবিতা।