কাজল-মেয়ের মতো মেঘবতী ওই
আকাশের নীলপটে আঁকিবুঁকি সই
ধরণীর বুকে জাগে শিহরণ সাড়া
শ্রাবণের সন্ধ্যায় এ মন গৃহহারা

নভোনীলে চমকায় চঞ্চলা ধরনী
ছায়াময়ী নামালো শ্রাবণ যামিনী
বাদলের ঝংকার বাজে ঝোপে ঝাড়ে
কলতান তোলে নদী কূল-কিনারে

রিমঝিম রিমঝিম ঝরে বারিধারা
আঁধারের দিগন্ত আজ দিশেহারা
মেঘের মাদল বাজে ঘন গগনে
পাতার ঘ্রাণ ভাসে ভিজে সমীরণে

কদম্ব শাখে ঐ ফোটে ফুলদল
ধরণীর চোখে আজি বরষার জল
সন্ধ্যামনির বাসে আকুল সমীর
প্রেম যমুনার তট কেঁদেই অধীর

ওগো মোর উদাসিনী কোথা তুমি আজ
ফেলেছ কি দূরে তব সব গৃহকাজ
বাদলের ঝরোঝরো মরমর তানে
কী ব্যথা জাগিছে তব বিরহী এ প্রাণে

মেঘের ঘনঘটা আজি ঐ গগনের সীমায়
ঝরে বারিধারা আজি আকুল হিয়ায়
বিজলীর তলোয়ার বুকে বিঁধে রে
আঁধার রজনী আসে ধীরে ধীরে ঘীরে

বাদলের মাঝে শুনি তব প্রেম আহবান
ভেঙে ফেলে এ শিকল যত ব্যথার দান
শ্রাবণের এই সন্ধ্যায় সকল বাঁধন টুটিয়া
আজিকে নামুক মোদের প্রেম নাচিয়া নাচিয়া