সাঝবধু সাজলে বুঝি সন্ধ্যা মনির সাঝকে
নিতুই হাওয়ায় তাল লেগেছে পাতাল ফুঁড়ে আজকে
আজকে রাতের পিয়াস মনে
সুর স্বরলিপির আয়োজনে
সূর্য মামা পালিয়ে গেল জট বাঁধিয়ে থাক গে
বন বাদাড় উঠল কেঁপে নিতুই বনে যাক গে
তড়িঘড়ি মাঝি ভাইয়ের নদীর তীরে না' থামে
নিখিল হাওয়ার স্নিগ্ধ মনে চারদিকে আধার নামে
আধার নামে বন বিতান হিমকুড়ের কুঞ্জে
গ্রাম গঞ্জ সব হারিয়ে গেল ঘৃতবনের পুঞ্জে
পাখিরা সব নাচে গানে ছুটল আকাশ তারার পানে
তারা গেল এঁকেবেঁকে ঝিলিমিলি গোধূলির রূপ সন্ধানে
গ্রাম ধাম নদীর নাম কোথায় বা পাহাড় বন
চারদিক বুঝি আজ স্বপনের সমন
স্বপ্ন বুঝি হাত বাড়াল
সূর্যি মামা তাই পালালো
আকাশ বাতাস ছূয়ে ঘোমটা খোলা জোছনা পড়ল ঢলে
মৃদু মৃদু গানে নদীর স্রোত ডাকল বুঝি কলকলে
তখন সন্ধ্যা হলো মশালডাঙ্গা গায়ের পরে
সাঝবধূ সাজছে সেথা চুপটি করে
ঝিঁঝিঁর ঘুঙুর বাজছে পায়ে পায়
সিঁদুর মেঘে সন্ধ্যামদি এগিয়ে যায়
সাঝবধূ ঘোমটা টেনে যাচ্ছে বাপের বাড়ি
সঙ্গে আছে জোনাকির রসের মিষ্টি হাড়ি
শঠতায় আজ সততে মুমুর্ষু করে ঠেলে
রঙিলা নায়ের মাঝি সেজে মাছ ধরবে জেলে
তৃষিত মন সুন্দরের টানে
তার আকুল হাওয়া লাগল প্রানে
ভ্রমরের মত গুনগুনিয়ে উঠল বেজে আজকে
সন্ধ্যাবধূও বুঝি সেজেছে এমন করে সাঝকে
কবিতা — সাঁঝবধূ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃতির কবিতা
,
প্রেমের কবিতা
৩৫
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'সাঁঝবধূ' কবিতাটিতে সূর্যাস্তের পর রূপসী বাংলার প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও সন্ধ্যার মোহনীয় পরিবেশ চিত্রিত হয়েছে। কবি এখানে সন্ধ্যাকে একজন 'সাঁঝবধূ'র সাথে তুলনা করেছেন, যে ঘোমটা টেনে বাপের বাড়ি যাচ্ছে। প্রকৃতিতে জোছনার আলো, জোনাকির দ্যুতি, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ এবং নদীর কলতান এক মায়াবী আবহের সৃষ্টি করেছে। কবিতাটি গ্রামবাংলার রূপ ও চিরন্তন সৌন্দর্যকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।