সন্ধ্যা তুমি সুন্দর হে সুন্দরতর হায়
এ রাতের বুকে এসো না
সন্ধ্যা তুমি রাতের বুকে এসো না
তুমি সুন্দরতর গহীনতর
তুমি কুৎসিত কুন্ঠিত লজ্জাহীন
এ রাতের বুকে এসো না
কুৎসিত-তুমি বিবেকহীন
তোমার কুৎসিত রূপ
অন্যকে দেয় কষ্ট-তুমি পথভ্রষ্ট
এ উদাস আকাশতলে
মৃত্যু আনত কাঁকন তলে
সুন্দরকে ডেকো না
ও তোমার কেউ না
পড়িলাম হাদিসের পাতায় পাতায়
কালো যেন কালোর বুকে যায়
শ্রেষ্ঠতম এ রাত এ বুকে এসো না
তরুবর জল ছলছল ছল
বাতাস বয় কল কল কল
খুঁটি পুঁতা সেখানে আকাশ অতল
এমন মধুর বিরহ বিধূর সময়
এ রাতের বুকে এসো না
আমাকে বল কালো কাক
তোমার কথাই থাক
তুমি অতি কুৎসিত পরী
তোমার হাতটি ধরি
সুন্দরকে ডেকো না
একবার নিজের মুখ আয়নায়
দেখে এ রাতের বুকে এসো না
সন্ধ্যা তুমি সুন্দর হে সুন্দরতর হায়
রোজ তাই গা ভাসালাম নিবিড় সন্ধ্যায়
হেরিয়ে কান্ত গিরি
মরু পাহাড় ধ্রুম্র ভেরি
দু ধারের ঐ আধার চিরি
গেলাম তোমার কাছে
তুমি সুন্দরকে ডেকো না
অন্যেরা তাকে - অনল উল্লাসে
রূপের আগুনে পুড়িয়ে দেবে
আর শত্রুরা মজা নেবে
এ রাতের বুকে এসো না
সুন্দর সে তো সুন্দরের বুকে শোভা পায়
হে ধূসর কালো সুন্দরী পরী
তোমার আকূল হাতটি ধরী
তোমার প্রেমে ডুবে মরি
তুমি এ রাতের বুকে এসো না
তুমি বিলীন হও এ রাতের বুকে
আজ মিত্যু আসুক নেই কোন ভয়
ঐ উদাস জীবন রোজ করে ক্ষয়
চাঁদের কাছে উদাস মনে
মনের কথা কই গোপনে
জীবনের ঐ এমন রনে
নিজের মুঠোয় নিলাম আকাশ
এমন আকাশ ঠাস ঠাস ঠাস
কবিতা — সন্ধ্যা তুমি রাতের বুকে এসো না
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃতির কবিতা
,
প্রেমের কবিতা
২৬
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
‘সন্ধ্যা তুমি রাতের বুকে এসো না’ কবিতাটিতে আলো-আঁধারি, সৌন্দর্য ও রূপক বৈপরীত্যের এক গভীর প্রকাশ ঘটেছে। কবি এখানে সন্ধ্যাকে একদিকে সুন্দর ও অন্যদিকে কুৎসিত-বিবেকহীন হিসেবে চিত্রিত করেছেন। জীবনের ক্ষয়, মৃত্যু ও বিপ্রতীপ আবেগের সুর হাদিস ও প্রকৃতির উপমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি বিরহ, দ্বিধা ও আত্মানুসন্ধানের এক চমৎকার বাংলা কবিতা।