পৃথিবীর নীরবতাটুকু মুছে আবার বুঝি সন্ধ্যারা আসে
হুতুম পেঁচার চোখের মত করে
বাদুড়ের ডানা ঝাপটার আওয়াজ অদূরে
ভেসে ভেসে -আবার সন্ধ্যারা আসে
যেটুকু ছিল নিরবতা-দূরর্তির রেখায় আঁকা
সেটুকুতেও বুঝি পৃথিবীর সাদ জাগে
সন্ধ্যা হওয়ার আগে যে ক্লান্তি ছিল
তার পরশে তার বিবাশে
মাথা পেতে তার পাশে সন্ধ্যা হয়ে আসে
আমি তখন চাঁদের কাছে অতি নিকট
তার নরম রোমন্থন আলো গায়ে মেখে মেখে
আজ বুঝি চাঁদও আমার পাশে
ছাতিম ফুলে ফুলে সন্ধ্যা হয়ে আসে
তার পরশ লাগে ঘাসে বাতাসে
আর তার ভালোবাসায় মৃত এই লাশে
কোন করুন আঁখি দূর দেশে ভেসে ভেসে যায়
প্রগলভ সে চোখে কি মায়া
আর মানুষের মন ভাঙ্গার শব্দ
আমার হৃদয়ে ফুটায় সে ছায়া
দু একটা পাখির পালক
রেখে যায় শেষ স্মৃতিটুকু
আমি তখন সন্ধ্যামনি ফুলের কাছে
মনের কথা একা একা কই
পাপড়ির আবছায়ায় লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি
ফুলও তার মতো হাসে
কি নির্মম সে হাসি
এখানে সন্ধ্যারা আসে নির্জন দ্বীপের মত
পৃথিবীর সব স্নিগ্ধতায় হারিয়ে যায় কিছু স্মৃতি
বয়সী বৃক্ষমূলে ন্যূজ থরথরে কাঁপা কাঁপা
ভালোবাসার স্বাদ বুঝি তাদেরো জাগে
শূন্যতায় ঘেরা তাদের পৃথিবী
শিশিরের মতো হয়ে আসে
কবিতা — সন্ধ্যা আসে
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃতির কবিতা
৪৪
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'সন্ধ্যা আসে' কবিতায় নির্জন সন্ধ্যার পটভূমিতে জীবনের বিষাদ, একাকীত্ব ও স্মৃতির আবেগ ফুটে উঠেছে। হুতুম পেঁচা, ছাতিম ফুল এবং জোছনার মায়াময় আলোয় কবি প্রকৃতির রহস্যময় রূপ এঁকেছেন। মানুষের ভাঙা হৃদয় আর বয়সের ভারে নুয়ে পড়া জীবনের নীরব হাহাকার প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় মিলেমিশে এক হয়ে যায়।