এই এক সন্ধ্যা পৃথিবী ঘুমোয় দূর দূর
চারিদিকে বেজে ওঠে পাতার নূপুর
অন্ধের মত নিশাচর নীশিতের মায়ায় জেগে ওঠে
কোথাও সন্ধ্যা লেগে থাকে তরুণীর ঠোঁটে
রক্তিম আকাশ নীচে গোধূলির ছায়াতল
রক্তাক্ত হৃদয়ে সন্ধ্যা করে ঝলমল
কার সাধ্য কার সুরভীত এ সন্ধ্যাকে থামাবার
আবছা ঘন অনিন্দ্য ও মনোরম মায়া
চারিদিকে জেগে ওঠে নিশির ছায়া
কেমন অন্ধকার গহীন প্রান্তর
কাপে থরথর বুকে ঝড় পাতা ও পত্তর
আমি শুধু তাকে চেয়ে দেখি বিস্ময়ের পর
শুনেছি নদীর ঘাটে বাঁধা তার ঘর
সে এসেছিল রাঙা নায়ে চরে
হাসিতে যেন তার মুক্তো ঝরে
তার ঠোঁটে তখন সন্ধ্যার রং
গোধূলির মত মুখে অনিন্দ্যের ঢং
সে চলে চুলের বেনীতে বেলিফূলের মালা গেঁথে
মন কয় যেন ঢুকি সেথা চোরের মত সিদ কেটে
যখন একটিবার তাহার দেখা মেলে
ভেবেছি আমিও তাকে হৃদয় দেব ঢেলে
যেমনি সূর্য গোধূলিকে দেয় হৃদয় ঢেলে
চেয়ে দেখ একটিবার আনত চোখ মেলে
ফাগুনের মত তখন তার চোখের তারা
লজ্জায় মুখ ঢাকা পরে হলো সাড়া
তরুণী তোর ঠোঁটের ডগায় আগুন লাগে
চুলের খোঁপায় পদ্ম ফুটে
ঐ কাজল চোখে চেয়ে চেয়ে
আমি এককোটি বছর জলে ডুবি
প্রেমের আধা জল খেয়ে
চাঁদ হয়ে দেই তারে শীষ
জানিনে তার মুখে অমৃত না বিষ
প্রিয় মুখ শুধুই এ বুক ধুক ধুক
এ হৃদয় কাপে থরথর
এ হৃদয়ে তুমুল সন্ধ্যা ঝড়
আকাশের ঐ সন্ধ্যা তারা জানে
কি ঝড় এই বুকের ভেতর
কবিতা — এই এক সন্ধ্যা
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃতির কবিতা
,
প্রেমের কবিতা
৩২
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'এই এক সন্ধ্যা' কবিতাটিতে প্রকৃতির গোধূলিলগ্ন এবং এক রহস্যময়ী তরুণীর প্রতি কবির গভীর অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সন্ধ্যার মায়াবী পরিবেশ, ঝরা পাতার শব্দ এবং অন্ধকারের আমেজ নিয়ে কবি প্রেমের আকুলতা ফুটিয়ে তুলেছেন। রূপক ও অলংকারের নিপুণ ব্যবহারে কবিতাটি রোমান্টিক ভাবাবেগে উজ্জ্বল এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের অন্তরের আবেগকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।