কে শুনালে মোরে এমন হিংসার বানী
জনক জননী বা নিগূঢ় কামিনী -
এমন আনত সন্ধ্যা মোর স্বদেশ জননী
দু দিকে মিলি মিলি বিবাসে দিবস ও রজনী
মোর অঙ্গ জুড়াবে তার ছায়াতল
সেখানে দেখি বিদ্রোহ করে ঝলমল
মোর অস্তিত্ব যখন দূর থেকে দূর দেশে
তখন স্বদেশে ভর করে দূরতীর ছায়া এসে
কোথাও কোথাও এত অহংকার নীচ অধঃপতন
বিষে বিষে নির্বিশে মম মর্মে করে জ্বালাতন
তবু ভালোবাসি স্বদেশ তারে এত এত আমি
সকল দেশের চেয়ে যেন সে দামি

দক্ষিণা ভারত থেকে স্বর্গের অতি নিকট উপকূল
সেখানেও দেখি আমার অস্তিত্ব ঝলমল
হে মোর স্বদেশ ভুমি
সেখানেও এসে তোমায় নিরবে নিভৃতে চুমি
চারদিকে এত এত প্রেমের বাণী
তবু নিজ দেশে পরবাসী সে কথা না জানি
হে দেশ আমার কারা নিল লুটে
শোষিত হলো পাষান প্রান মজুর মুটে
সূদূর মুল্লুকে গহীন বন্দরেও দেখি নোঙর পাতা
দিল্লির মসনদ মাঠঘাট শুনেনি সূদূরে এমন কথা
সেখানেও তার হলো না ঠাঁই
অস্তিত্বে আমার দেশ তারে খুঁজে পাই
কোথা থেকে কোথা গেলাম
সেখানে অস্তিত্বের সম্ভার পেলাম
অস্তিত্বে আমি ঘুরি বহির্বিশ্বে
মমতায় মাখা চিত্রময়ী দৃশ্যে
আর অন্ধকারে ডাকা মায়ার বাহুর ডুলি
মমতার আধার যেন অপার জুলি
তিলোত্তমা শহর নিবাসে বেঁধে বাসা
মিটিল না তাই তার আকূল প্রত্যাশা
তোমার প্রতারণা অন্যের ধ্বংসাবশেষ
সততা সর্বদাই বিশেষ
অঙ্কুশে উদিত আমি হিন্দু বা মুসলমানি
তার খবর পরতে পরতে আমি জানি
তবে অতি সাধারণ আমি
আমার দেশ আমার নিকট অনেক দামি
আমি এত অবাক এত বিস্ময়
অস্তিত্বে আমার নেই কোন সংশয়
প্রেমের রাজ্যে খুঁজি তার অস্তিত্ব ও সততা
অথবা আমি ভেবে নেই স্বদেশ প্রথা

আমি যখন কবি
আমি প্রত্যেক কবির প্রতিচ্ছবি
তোমার সাথে কবিদের কিসের শত্রুতা
কিসের বৃত্তে বন্দী জানো তুমি সে অনেক পুরোনো প্রথা
মেধাবৃত্তে কবিদের থাকে বিরহী পাখা
আর কবি বিপরীতে থাকে শুধু দূরতীর রেখা আঁকা
পৃথিবীতে বিনিময় ছাড়া যদি কিছু থাকে
তা হলো প্রেম
প্রেম সততা ও সম্মতির হেম
দেশ যেন মম আরশি নগর
ক্ষমতা পেলে নারীই সাজে ভ্রমর
হে মোর জননী এত হিংসে করে তারা কবিদের
আর বেধে রাখো দূরতির রেখায়
অতি অহংকারী নীচ প্রকৃতির মানুষের দেশ থেকে
তুমি ঘুরে দাঁড়াও শেষে