চশমার কাচে লেগে থাকত রোদ,
পাইপের ধোঁয়ায় আঁকা হত ভোর—
এমনই সাধারণ ছিল সেই হাঁটাচলা,
যেন কেউ নিজের উঠোন পেরিয়ে যাচ্ছে রোজ।

অথচ যেখানে পা পড়ত তাঁর,
সেখানেই মাটি একটু নরম হয়ে যেত,
যেন মাটিও চিনে নিত কার ভার সে বহন করছে—
মানুষ, না একটা দেশের ভবিষ্যৎ।

বাড়ির চৌকাঠে দাঁড়িয়ে যিনি একদিন
সন্তানের কপালে হাত রাখতেন নরম করে,
তিনিই একদিন হাত রাখলেন লক্ষ কপালে,
আর সব কপাল হয়ে গেল তাঁর ঘর।

কারাগারের দেয়াল তাঁকে চিনত ভালো,
জানত তাঁর নিশ্বাসের মাপ, পায়চারির ছন্দ—
তবু দেয়াল কখনো বলেনি, "থামো",
কারণ দেয়ালও টের পেত এক অদম্য দ্বন্দ্ব।

তিনি চলে গেলেন এক ভোরবেলা,
যখন কুয়াশা তখনও নামেনি ঘাসে,
বুলেট যা নিতে পেরেছিল, তা শুধু শরীর—
কণ্ঠ থেকে গেল হাওয়ায়, বাতাসে বাতাসে।

আজও কোনো মাঠে চাষি লাঙল ঠেলে
মাটির নিচে যদি শোনে কোনো স্বর,
বুঝে নেয়, এ সেই মানুষের পদধ্বনি,
যে হেঁটে গেছে মাটির ভিতর দিয়ে, নিরন্তর।