ধানমন্ডি! ৩২! থমকে দাঁড়ানো ঘর!
বুকে তার জমাট রক্তে ঝরে কালবোশেখি ঝড়!
সিঁড়ির ধাপে যে ছায়া আজিও তো জাগে রে,
শোকের অতলে যেন নীল বিষ লাগে রে!
স্তব্ধ বাতাস থমকে দাঁড়ায়, কাঁদে যে রাতের তারা—
হত্যাধারা!

প্লাবিত রক্তে ভিজেছিল সুর, মুছে গিয়েছিল ভোর,
ইতিহাসে লেগেছিল নিশিদিন কালোর গভীর ঘোর!
যে বুকেতে ছিল গোটা মানচিত্রের ঘর,
সে বুকেই নেমে এলো ঘাতকের তক্ষক-শর!
ভাঙা চশমায় আঁকা রয়ে গেল স্বপ্নের মূল ভিত—
শোকসংগীত!

আজকের ওই উঠান জুড়ে এ কী অন্ধের উল্লাস!
ভস্মে ঢাকা স্মৃতিরেখা, বুকে বিষাক্ত নিশ্বাস!
যে গৃহ গড়েছিল স্বাধীনতার মূল সুর,
আজ কেন সেখানেতে আঁধার অতল দূর?
ইতিহাস যার কাঁপাতে পারে না শৃঙ্খল আর ভয়—
তার কি মরণ হয়?

পোড়া ইটে ইটে এখনো যে বাজে মুক্তিকামী সে ডাক,
ধূলির পটে কি মোছা যায় বলো মহাকালের বাক?
ধ্বংসের তলে জ্বলে ওঠে আলো অগ্নিকণার মতো,
চেতনার বুকে অমলিন রয় রক্তাক্ত সেই ক্ষত।
হৃদয়পটে অক্ষয় তিনি, অমর সে আহ্বান—
বঙ্গবন্ধু মহান!